প্রিয় বরিশাল - খবর এখন স্মার্ট ফোনে প্রিয় বরিশাল - খবর এখন স্মার্ট ফোনে কারাগারে শেখা সেলাইয়ের কাজই দেখাচ্ছে ভালো থাকার স্বপ্ন | প্রিয় বরিশাল কারাগারে শেখা সেলাইয়ের কাজই দেখাচ্ছে ভালো থাকার স্বপ্ন | প্রিয় বরিশাল
শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ০৭:৫৭ অপরাহ্ন
প্রিয় বরিশাল :
খবর এখন স্মার্ট ফোনে...

কারাগারে শেখা সেলাইয়ের কাজই দেখাচ্ছে ভালো থাকার স্বপ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদন
  • প্রকাশিতঃ শুক্রবার, ১৯ মার্চ, ২০২১
কারাগারে
26 Shares

মাদক মামলায় দীর্ঘ আট মাস কারাভোগ করেছেন লাকি আক্তার। তবে তিনি সেখানে থেকে নিজেকে শুধরে নেওয়ার প্রত্যয়ে সেলাইয়ের কাজ শেখেন।
আর সেই শেখা কাজ থেকেই তিনি এখন সৎ পথে উপার্জন করে জীবিকার স্বপ্ন দেখছেন।

পরিবার-পরিজন নিয়ে একটু ভালোভাবে বেঁচে থাকার লক্ষ্যে কর্মসংস্থানের জন্য সেই লাকিসহ বরিশালে তিন অসহায় নারীর হা‌তে সেলাই মেশিন তু‌লে দিয়েছেন জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার।

বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) বিকেলে বরিশাল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) প্রশান্ত কুমার দাস, জেলার প্রবেশন অফিসার সাজ্জাদ পারভেজের উপস্থিতিতে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়।

প্রবেশন অফিসার সাজ্জাদ পারভেজ জানান, সেলাই মেশিনপ্রাপ্ত তিনজনই বরিশাল নগরের বাসিন্দা। তাদের মধ্যে লাকি আক্তার একটি মাদক মামলার আসামির হয়ে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলেন। সেখানে পরিচালিত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অপরাধ সংশোধন ও পুর্নবাসন সমিতির উদ্যোগে সেলাই বিষয়ে ভালোভাবে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। বরিশালের জেলা প্রশাসক কারাগার পরিদর্শনে গিয়ে লাকির সেলাই কাজের দক্ষতা দেখতে পান।

তিনি জানান, লাকি কারাগার থেকে বের হয়ে ভালো হওয়ার প্রত্যয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কাছে একটি সেলাই মেশিন চেয়ে আবেদন করেন।

লাকি আক্তার জানান, তিনি সমাজে ভালোভাবে বেঁচে থাকতে চান। মাদক মামলার সাজা শেষে কারাগার থেকে বাড়িতে এসে দেখতে পান তার সন্তানরা অত্যন্ত অসহায় অবস্থায় রয়েছে। তাই তিনি জীবিকানির্বাহের জন্য একটি সেলাই মেশিন চেয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন অফিসার কাছে একটি সেলাই মেশিন চেয়ে আবেদন করি। যা আজ জেলা প্রশাসকের হাত থেকে গ্রহণ করলাম। আশা করি এ দিয়ে সৎ ভাবে রোজগার করে সুন্দরভাবে জীবনযাপন করতে পারবো।

অপরদিকে সেলাই মেশিন প্রাপ্ত শান্তা ইয়াসমিনের স্বামী একজন পেপার বিক্রেতা। যার আয় দিয়ে সংসার চালাতে কষ্ট হয়, তাই তিনি সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন অফিসারের কাছে একটি সেলাই মেশিন চেয়ে আবেদন করেন।

এছাড়া শাহিনুর বেগম একজন স্বামী পরিত্যক্ত নারী। তার স্বামী দীর্ঘ দু’বছর আগে কন্যা সন্তানসহ তাকে রেখে চলে অন্যত্র চলে যান। ওই নারীর বাবা না থাকায় বর্তমানে সংসার চালাতে তার খুবই হিমশিত খেতে হয়। মানুষের বাসায় কাজ করে জীবনযাপন করতে হচ্ছে তাকে। এ অবস্থায় তিনিও সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন অফিসারের কাছে একটি সেলাই মেশিন চেয়ে আবেদন করেন। এ তিনজনকে শুক্রবার জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে সেলাই মেশিন দিয়ে সহায়তা করা হলো।

জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার বলেন, সমাজে পিছিয়ে পড়া মানুষগুলোর সহায়তায় সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায়েও এগিয়ে আসা উচিত। আশা করি সেলাই মেশিন প্রাপ্তরা এর মাধ্যমে আয়-উপার্জন করে পরিবারকে নিয়ে সুন্দর জীবনযাপন করতে পারবেন।

আর সেলাই মেশিন প্রাপ্তরাও আশা প্রকাশ করেন এরমাধ্যমে অর্জিত আয় দিয়ে সন্তানদের পড়াশুনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তাদের নিয়ে ভালোভাবে বসবাস করতে পারবেন।

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © priyobarishal.com-2018-2021
themesba-lates1749691102