প্রিয় বরিশাল - খবর এখন স্মার্ট ফোনে প্রিয় বরিশাল - খবর এখন স্মার্ট ফোনে রাজনীতিতে ভাই-ভাই বিরোধ | প্রিয় বরিশাল রাজনীতিতে ভাই-ভাই বিরোধ | প্রিয় বরিশাল
শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১, ০৫:৩১ অপরাহ্ন
প্রিয় বরিশাল :
খবর এখন স্মার্ট ফোনে...

রাজনীতিতে ভাই-ভাই বিরোধ

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ শনিবার, ১৩ মার্চ, ২০২১
রাজনীতিতে ভাই-ভাই বিরোধ

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভাই-ভাই বিরোধের ঘটনা খুব একটা বেশি নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে তার ছোটভাই কাদের মির্জা রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব বিরোধ অন্যতম আলোচনা এবং চর্চার বিষয়। এই প্রেক্ষাপটেই বাংলা ইনসাইডার খুঁজে দেখার চেষ্টা করেছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভাই-ভাই বিরোধের ঘটনাগুলো। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে রাজনীতিতে ভাই-ভাই সহমর্মিতা, সহযোগিতা করে পরস্পরকে বিকশিত করে। যেমন নূর-ই-আলম চৌধুরী এবং তার ছোটভাই নিক্সন চৌধুরী। দুইজনই এমপি এবং দুজনের মধ্যে কোন বিরোধ নেই। এরকম আন্তরিকতার গল্প অনেক আছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ওবায়দুল কাদের এবং কাদের মির্জার এ বিরোধের প্রেক্ষিতে খুঁজে দেখার চেষ্টা করা হয়েছে রাজনৈতিকদের এরকম ভাই-ভাই বিরোধের আলোচিত ঘটনাগুলো। এর মধ্যে রয়েছে-

মইনুল-মনজুর বিরোধ: ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন এবং তার ছোট ভাই আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। দুজনই সংসদ সদস্য ছিলেন। দুজনই মানিক মিয়ার সন্তান। মানিক মিয়ার সন্তান হিসেবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাদের দুজনেরই একরকম ঘনিষ্ঠতা ছিল। কিন্তু দুই ভাই দুই মেরুতে বসবাস করেন। তাদের বিরোধ এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে, শেষ পর্যন্ত মানিক মিয়ার ইত্তেফাকসহ তাদের সম্পত্তিও ভাগ বাটোয়ারা করতে হয়। দুই ভাইয়ের মুখ দেখাদেখিও বন্ধ এবং দুই ভাই একে অন্যের ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর সমালোচক। ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন ১৯৭৫ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর তীব্র বিরোধিতা করেন এবং তিনি পদত্যাগ করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি খুনি মোশতাকের দল করেন। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। জাতীয় পার্টিতে তিনি মন্ত্রী ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি মূল ধারার জাতীয় পার্টি থেকে বেরিয়ে জাতীয় পার্টিতে তার অংশকে আলাদা করে একটি ছোট্ট মুদি দোকানের মতো রাজনৈতিক দল পরিচালনা করছেন। যখনই ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন ক্ষমতাবান হন, তখন তিনি ছোট ভাইয়ের উপর চড়াও হতে কার্পণ্য করেন না। যার প্রমাণ ওয়ান ইলেভেন। সেই সময়ে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন ক্ষমতাবান উপদেষ্টার দায়িত্ব পেয়েছিলেন এবং সে সময় তার ছোটভাই দণ্ডিত হয়ে পলাতক ছিল। দুই ভাইয়ের মধ্যে ব্যবসায়িক বিরোধ প্রকাশ্য বিষয়।

সাকা চৌধুরী-গিয়াস কাদের চৌধুরী: যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছোট ভাই ছিল গিয়াস কাদের চৌধুরী। দুই ভাই বিএনপির রাজনীতি করতো। আপাতদৃষ্টিতে গিয়াস কাদের চৌধুরী বড় ভাই সাকা চৌধুরীর অনুগত থাকলেও এলাকার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের বিরোধের কথা প্রায়ই গণমাধ্যমে প্রকাশিত হতো। অবশ্য সাকা চৌধুরীর মৃত্যুর পর গিয়াস কাদের চৌধুরীও এখন রাজনীতিতে তেমন আলোচিত নন।

মির্জা ফখরুল-মির্জা ফয়সাল আমিন: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির মহাসচিব। তার ছোট ভাই মির্জা ফয়সাল আমিন ঠাকুরগাঁও পৌরসভা মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। দুই ভাইয়ের মধ্যেও সম্পর্কের টানাপোড়নের খবর পাওয়া যায়। মির্জা ফয়সাল আমিন বিএনপির রাজনীতি সরকারের প্রকল্পের প্রশংসা করেন। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের তিনি একজন বড় ভক্ত। আর অন্যদিকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারের কঠোর সমালোচক। তবে দুই ভাইয়ের বিরোধ তাদের পরিবারের গণ্ডির বাইরে রাজনীতির গণ্ডিতে খুব একটা দেখা যায় না।

তবে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত বিরোধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং তার ছোটভাই কাদের মির্জার মধ্যে। এই দুই ভাইয়ের এখন আওয়ামী লীগের অস্থির করে তুলেছে এবং দুই ভাইয়ের বিরোধের কারণে আওয়ামী লীগের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানা যায়।

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © priyobarishal.com-2018-2021
themesba-lates1749691102