প্রিয় বরিশাল - খবর এখন স্মার্ট ফোনে প্রিয় বরিশাল - খবর এখন স্মার্ট ফোনে দেশপ্রেম ও উন্নয়নই ক্ষমতা স্থায়ী করার শ্রেষ্ঠ উপায় | প্রিয় বরিশাল দেশপ্রেম ও উন্নয়নই ক্ষমতা স্থায়ী করার শ্রেষ্ঠ উপায় | প্রিয় বরিশাল
শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১, ০৫:৩২ অপরাহ্ন
প্রিয় বরিশাল :
খবর এখন স্মার্ট ফোনে...

দেশপ্রেম ও উন্নয়নই ক্ষমতা স্থায়ী করার শ্রেষ্ঠ উপায়

অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিতঃ বুধবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
দেশপ্রেম ও উন্নয়নই ক্ষমতা স্থায়ী করার শ্রেষ্ঠ উপায়

সাধারণত পৃথিবীর যেকোন ব্যাক্তি বা দল একবার ক্ষমতায় গেলে আর ছাড়তে চায় না। কারণ ক্ষমতায় থাকলে সন্মান,প্রভাব,প্রতিপত্তি,পরিচিতি-সবই পাওয়া যায়।

এতে দোষের কিছু নাই। কারণ সৎ ও নীতিবান ব্যাক্তিরা রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকে যেভাবে একটি দেশের জনগণের কল্যাণে কাজ করতে পারেন,অন্য কোনভাবে সেটা সম্ভব না।

এ্যামেরিকাতেও যদি কোন রাষ্ট্রপতির দুই মেয়াদের বেশী ক্ষমতায় থাকার পদ্ধতি না থাকত,তাহলে সেখানকার রাষ্ট্রপতিরাও দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করতো। ট্রাম্প নিজেও চীনের জিং পিং-এর মতো আজীবন রাষ্ট্রপতি হওয়ার ইচ্ছা জানিয়েছিলো। এমনকি সে সন্ত্রাসী নেতার মতোই ইতিহাসে প্রথম এ্যামেরিকার সংসদ ভবনওে দলবল আর অস্ত্র নিয়ে হামলা করেছিলো।

কিউবার ফিডেল ক্যাষ্ট্রো,সিঙ্গাপুরের লি কুয়ান ইউ,লিবিয়ার গাদ্দাফি,মালয়শিয়ার ড: মহাথির মোহাম্মদ ক্ষমতায় গিয়েই সীমাহীন দারিদ্র ও দু:শাসন থেকে নিজেদের দেশকে মুক্ত করে পৃথিবীর উন্নত রাষ্ট্রগুলিতে পরিণত করেছিলেন। তারা প্রত্যেকেই ২০ থেকে ৫০ বছর ক্ষমতা ছিলেন। কিন্ত জনগণ কখনো তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেনি,বরং চেয়েছে,তারা যেনো আরো বেশী সময় ক্ষমতায় থাকেন।কিন্ত মহাথির ও ক্যাষ্ট্রো জনগণের সন্মান নিয়ে নিজের ইচ্ছাতেই ক্ষমতা ছেড়ে দিয়েছেন। কারণ তাদের ক্ষমতায় থাকার মূল উদ্দেশ্য ছিলো জনকল্যাণ,চুরি-দুর্নীতি করা না।

কিন্ত দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পথ দুটি। একটা হচ্ছে নিজে সৎ,নীতিবান ও দেশপ্রেমিক হয়ে জনগণের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য নিরলসভাবে কাজ করা।যা আর অন্যটা হচ্ছে ক্ষমতায় গিয়ে চুরি,ঘুষ, দুর্নীতি,স্বজনপ্রীতি,লাম্পট্য,বিদেশে অর্থপাচার,নিজ দল ও গোষ্ঠীর এধরণের অপরাধীদের নির্বিঘ্নে এসব অপরাধ করতে দেয়া আর জনগণ এসবের প্রতিবাদ করলে তাদের উপর নির্মম নীপিড়ণ ও নির্যাতন চালানো।

দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার বেশীরভাগ শাসকই দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার জন্য এই পদ্ধতিটা অনুসরণ করে। যেমনটা করেছে মার্কোস,সুহার্তো,মবুতু,ইয়াহিয়া,এরশাদ ও তারেক।এর ফলে তাদের প্রত্যেকেরই পরিণতি হয়েছে শোচনীয়।প্রত্যেকেই গণ-আন্দোলনে ক্ষমতা হারাতে হয়েছে। ক্ষমতাচ্যুত হয়ে জেল খাটতে হয়েছে। অথচ ক্যাষ্ট্রো,লি কুয়ান ইউ বা মহাথির মোহাম্মদের মতো নীতিবান শাসক হলে তাদের এই পরিণতি হতো না।

বাংলাদেশের দুর্নীতিবাজ-লম্পট স্বৈরশাসক এরশাদ আর মালয়শিয়ার ড: মহাথির মোহাম্মদ প্রায় কাছাকাছি সময়ে ক্ষমতা লাভ করেছিলেন। কিন্ত সামরিক শাসক,খুনী লম্পট,বিশ্ববেহায়া এরশাদ সারা দেশে চুরি-ঘুষ-দুর্নীতি,স্বজনপ্রীতি,লাম্পট্য,বিদেশে অর্থপাচারের সূচনা করে দেশের রাজনৈতিক ও জনগণকে নষ্ট করেছে। দেশ ধ্বংস করেছে।আর এর ফল হিসেবে সে গণ –আন্দোলনে ক্ষমতাচুত হয়ে দীর্ঘদিন জেল খেটেছে।

অন্যদিকে মালয়শিয়ার জনগণ ২২ বছর রাষ্ট্রক্ষমতা পরিচালনা করে ২০০৩ সালে অবসরে যাওয়া ড: মহাথির মোহাম্মদকে পুনরায় রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য নির্বাচনে দাড়াতে অনুরোধ করেছে।এরশাদ যদি তাকে অনুসরণ করতো,তাহলে সেও একই ভাবে সন্মানিত হতো।সৎ,নীতিবান ও দেশপ্রেমিক ব্যক্তিরা এভাবেই জীবিত অবস্থাতেই অমরত্ব লাভ করেন।

জনগণের ঘৃণা নিয়ে তাদের ক্ষমতা হারাতে হয় না।

সুতরাং যেসব দেশের যারা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে চায়,তাদের উচিত হবে জনগণের কল্যাণের জন্য কাজ করা।

*** লেখাটা ৩ বছর আগে ফেসবুকে ও পরে ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ তারিখে এই ব্লগে দিয়েছিলাম। হঠাৎ পুরানো খবরের তালিকায় চলে আসায় আবারো ব্লগেও দিলাম।

পোস্টটি যিনি লিখেছেন- অনল চৌধুরী এর বাংলা ব্লগ । bangla blog | সামহোয়্যার ইন ব্লগ – বাঁধ ভাঙ্গার আওয়াজ

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © priyobarishal.com-2018-2021
themesba-lates1749691102