প্রিয় বরিশাল - খবর এখন স্মার্ট ফোনে প্রিয় বরিশাল - খবর এখন স্মার্ট ফোনে আওয়ামী লীগে নব্য মোশতাকদের আনাগোনা? | প্রিয় বরিশাল আওয়ামী লীগে নব্য মোশতাকদের আনাগোনা? | প্রিয় বরিশাল
শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১, ০৫:২৮ অপরাহ্ন
প্রিয় বরিশাল :
খবর এখন স্মার্ট ফোনে...

আওয়ামী লীগে নব্য মোশতাকদের আনাগোনা?

অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
আওয়ামী লীগে নব্য মোশতাকদের আনাগোনা?

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি। এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে যেমন ছিল দেশি-বিদেশী চক্রান্ত, সেনাবাহিনীর কিছু উচ্চবিলাষী বিপদ্গামী কর্মকর্তা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিল, তেমনি ছিল আওয়ামী লীগের ভিতরের ষড়যন্ত্র। আওয়ামী লীগের ভিতরে খন্দকার মোশতাক, তাহেরউদ্দিন ঠাকুর, ওবায়দুর রহমানের মত কিছু দুর্বৃত্ত এই হত্যাকাণ্ডে মদদ দিয়েছে এবং এই হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিল। ৭৫-এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বঙ্গবন্ধুর রক্তের উপর পা মাড়িয়ে যারা গণভবনে যেয়ে শপথ নিয়েছিলেন তারা সবাই আওয়ামী লীগের নেতাই ছিলেন। খন্দকার মোশতাকের যে মন্ত্রীসভা, সেই মন্ত্রীসভায় যারা অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন তারা প্রায় সবাই ৭৫-এ বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। তাই আওয়ামী লীগে সবসময় বলা হয় যে, আওয়ামী লীগে ক্ষতি হয় ভিতর থেকে। বাইরের লোক আওয়ামী লীগের যতটা না ক্ষতি করে, তার চেয়ে বেশি ক্ষতি করে করে আওয়ামী লীগের ভিতরের ষড়যন্ত্রকারীরা।

শুধু ৭৫ নয়, বিভিন্ন সময় সংকটে দেখা গেছে যে, ভিতর থেকে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে। ৯১ সালের আওয়ামী লীগের নির্বাচনের পরাজয়ের অন্যতম কারণ মনে করা হয় আওয়ামী লীগের ভিতরের ষড়যন্ত্র, কলহ এবং কোন্দল। ২০০১ সালে নির্বাচনী বিপর্যয়ের সময় দেখা গেছে আওয়ামী লীগের ভিতরের একটি শক্তি গোপনে বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল। তাদের কারণেই ঐ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে শেষ পর্যন্ত অংশগ্রহণ করতে হয়েছিল এবং নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পরাজিত হয়েছিল। ২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেনের সময় আমরা দেখি যে আওয়ামী লীগের ভিতরের কিছু এমপি, যারা আওয়ামী লীগের সভাপতিকে বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগকে বিভক্ত করতে চেয়েছিল। এখন আওয়ামী লীগ টানা ১২ বছর ক্ষমতায় রয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বেশকিছু জায়গায় অস্বস্তি এবং একধরণের বিব্রতকর পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে দেশি-বিদেশী নানারকম ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার আওয়ামী লীগকে কিছুটা হলেও বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে দাঁড় করিয়েছে। আল-জাজিরার প্রতিবেদনের পর এই বিষয়ে বিভিন্ন মহলে বিভিন্ন রকম আলোচনা হচ্ছে।

আর এই সমস্ত প্রেক্ষাপটেই আওয়ামী লীগের ভিতরে গুঞ্জন উঠেছে যে, আওয়ামী লীগের ভিতর কি আবার নতুন করে মোশতাকদের আনাগোনা হয়েছে? আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যে সমস্ত অপপ্রচারগুলো হচ্ছে, সেইসব অপপ্রচারগুলোর বেশকিছু তথ্য যাচ্ছে আওয়ামী লীগের ভিতর থেকেই। আওয়ামী লীগের কোন নেতা, মন্ত্রী, এমপি হয়তো এই সমস্ত তথ্যগুলো দিচ্ছে। আওয়ামী লীগের ভিতরে যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল, এই কোন্দলের কারণে এক নেতার তথ্য অন্যজন গণমাধ্যম এবং বিএনপি-জামায়াতের এজেন্টদের হাতে তুলে দিচ্ছে। এরকম বেশকিছু খবর পাওয়া গেছে। দলের এমপি, প্রভাবশালী নেতারা প্রকাশ্যে সরকারের গুণগান গাইলেও গোপনে সরকারের নানা সমালোচনায় মুখর হচ্ছেন। বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের সমালোচনা করেছেন। আর এই সমালোচনা লুফে নিচ্ছেন বিএনপি-জামায়াতের এজেন্টরা এবং এটিকে নিয়েই তারা পরবর্তীতে সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করছে। আর একারণেই মনে করা হচ্ছে যে, এখন আওয়ামী লীগের ঘরের শত্রু বিভীষণদেরকে থামানোই হলো সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আওয়ামী লীগে আবার নতুন কোন মোশতাকের জন্ম হচ্ছে কিনা সেই প্রশ্ন এখন আওয়ামী লীগের মধ্যেই উঠেছে। আর এই নতুন মোশতাকদের আনাগোনা বন্ধ না করতে পারলে সামনে আবার আওয়ামী লীগের বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে আশংকা করছেন অনেক আওয়ামী লীগের নেতাই।

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © priyobarishal.com-2018-2021
themesba-lates1749691102